দেশের সবচেয়ে বৃহৎ একটি প্রকল্প পদ্মা সেতু। এই সেতুটি তৈরী হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে। এই ব্রীজ তৈরীতে প্রয়োজন ১ লক্ষ মাথা বা কল্লা, এমন একটি গুজব ছড়িয়েছে দেশব্যাপী। শহর-বন্ধর, গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লা, অলি-গলি পর্যন্ত এই গুজবের ডাল-পালা ছড়িয়েছে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, গ্রাম্য-শহুরে, নারী-পুরুষ অনেক মানুষই এই ভিত্তিহীন গুজবে বিশ্বাস করছে।
গুজবের ডালপালা ধরে এর প্রতিফলন
এই এক লক্ষ মাথা যোগাড় করতে ২৫টি টিম মাঠে নেমেছে যারা দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত হতে ছেলেধরারা বাচ্চাদের ধরে কল্লা কেটে নিয়ে আসবে! আজ ঐ মহল্লার এক ছেলে কাল আরেক মহল্লার আরেক মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না তাদেরকে ছেলেধরা নিয়ে গেছে। এমন গুজবে পুরো দেশের বাচ্চাদের বাবা-মা রা রীতিমত আতঙ্কিত। আতঙ্কিত হবেন-ই-বা-না কেন? হবারই কথা। যদি সত্যি ছেলে ধরা এসে তার প্রান প্রিয় কলিজার টুকরো সন্তানকে নিয়ে যায়!
এই গুজবে আরো বিশ্বাস করা শুরু করেছে নেত্রকোনায় ছেলেধরা সন্দেহে গনপিটুনীতে নিহত এক ব্যক্তির ব্যাগ থেকে একটি শিশুর কাটা মাথা উদ্ধার করে। এটি প্রথম আলোর মত একটি আস্থাশীল পত্রিকায় ছাপা হওয়ার কারণে দেশবাসীও বিষয়টি জেনেছে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেজবুকের মাধ্যমে আরো বেশী ছড়িয়েছে।
এর রেশ ধরে ঢাকা শহরের মত জায়গায় এক মহিলাকে ছেলেধরা সন্দেহে গণ পিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেছে। চট্টগ্রামে কয়েকটি বাচ্চাকে একলোকের সাথে সিএনজিতে করে যেতে দেখে তাকেও পিটিয়ে আধমরা করে ফেললো। আমরা কি হতভাগ্য জাতি কোন কিছু যাচাই-বাছাই না করে শুধুমাত্র সন্দেহের (অকারণ) বশবর্তী হয়ে এবং একটি শ্রেফ গুজবে কান দিয়ে মেরে ফেলছি কাউকে। এর ফলে কোন নিষ্পাপ শিশু হয়ে যাচ্ছে মা হারা কেউ বাবা হারা, এর ফলে এসব মাছুম বাচ্ছারা কোথায় দাড়াবে কিভাবে বেচেঁ থাকবে একবার তা ভাবার প্রয়োজনও মনে করছি না। এরকম একটি ঘটনা যদি আমার নিজের জীবনে হতো আমার সন্তানদের ভবিষ্যত কি হতো তারা কোথায় মা পেত বাবা পেত তা কি কেউ ভাবছি।
পদ্মা সেতু তৈরী করতে কি প্রয়োজন এই এক লক্ষ মাথার?
ব্রীজ-কালভির্ট-রাস্তা কিংবা কোন সুউচ্চ ভবন নির্মানে যেসব উপাদান লাগে এর মধ্যে মানুষের মাথার প্রয়োজন হবে কেন। মাথা কি কোন কংক্রিট বা রড এর পরিপূরক? নাকি এর থেকেও শক্ত কোন বস্তু?? তাহলে মানুষের মাথা কেন??? তাও আবার কোমলমতি শিশুদের মাথা, যা অতিশয় নরম। শেফ গুজব আর কুসংস্কার। আদোতে এর কোন ভিত্তি নেই। আধুনিক সভ্যতা ও প্রযুক্তির যুগে এসেও আমরা কিভাবে এমন ডাহা মিথ্যা গুজবে বিশ্বাস রাখি? আমরা কি তাহলে সভ্যতা আর আধুনিক প্রযুক্তির থেকে পেছনে চলে যাচ্ছি?
তাহলে কি সমাজে বিবেকবান মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে আর আমরা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছি? আমরা কি সভ্যতার দিকে না যেয়ে অসভ্যতার দিকে যাচ্ছি?
The mobile app is a game changer. I can play anywhere without any glitches. It’s much more convenient than the browser version. Cheers to bt777app