নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনরুপ শৈথিল্য দেখালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ সরকারের

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা–শৈথিল্য দেখালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর বিধান সম্পর্কে সচেতন হয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। সরকারের সব মন্ত্রণালয়-বিভাগ এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের কাছে পাঠানো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ – এর বিধানাবলীর প্রতি সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে। এই আইনের ৪ ধারায় নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি ও ৫ ধারায় শৃঙ্খলামূলক বিধানাবলী উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকারের অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য প্রদর্শন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে এ বিষয়ে পত্র প্রেরণ করে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হতে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিধান অনুসরণ সংক্রান্ত পরিপত্র দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করতে বলা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাদের আওতাধীন সকল দপ্তর, অধিদপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির ধারাবাহিকতায় এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য নির্দেশ দিয়ে পত্র প্রেরণ করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সব অঞ্চল, জেলা–উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা পাঠিয়ে দিয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসরণ করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে।

এ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিস হতেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করার জন্য নির্বাচন কমিশন তাদের তালিকা সংগ্রহ করেছে এব্ং সেমোতাবেক প্যানেল প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁরা সবাই নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য হবে। তাঁরা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীন থাকবেন।

নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর কথা উল্লেখ করে পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব পালনে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য প্রদান করলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশন অভিযুক্ত করতে পারবে এবং শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে নির্দেশ প্রদান করতে পারবে।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র না থাকলেও নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা কমিশনের কোনো নির্দেশ পালন বা তথ্য সরবরাহের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবে। দায়িত্ব পালনে কোনর অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্কেমচারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা-২০২৬ অনুষ্ঠানে দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেছে। একইসাথে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে কোনোরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।

33 Replies to “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনরুপ শৈথিল্য দেখালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ সরকারের”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *